ট্রাম্পের ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ ফাঁস হল

নিউজডেস্ক,টাইমস্ বাংলাঃ  ইহুদীবাদী ইস্রায়েলকে অক্ষত রাখতে আমেরিকার প্রচেষ্টা সর্বজন জ্ঞাত।কিছুদিন পূর্বে জেরুজালেমকে ইস্রায়েলের রাজধানী হিসাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকৃতি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অস্থিরতার সৃষ্টি করেছিলেন। ফিলিস্তিন ও ইস্রায়েলের মধ্যে সংকট নিরসনকল্পে ট্রাম্প একটি গোপন খসড়া  তৈরী করেছিলেন যা ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত যেটাতে ইস্রায়েলেরই স্বার্থই সংরক্ষিত সেটার কিয়দংশ ফাঁস করল ইস্রায়েলী পত্রিকা ‘ইস্রায়েল হাইয়োম’।

ফাঁস হওয়া নথি অনুসারে ঐ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে ইস্রায়েল ও পিএলও এবং হামাসের মধ্যে।পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকাকে নিয়ে একটি রাষ্ট্র তৈরী হবে,যার নাম হবে ‘নয়া ফিলিস্তিন।জেরুজালেমের অবস্থার কোন পরিবর্তন হবেনা,এই শহরের নিয়ন্ত্রন ইস্রায়েলের  উপরই থাকবে।নয়া ফিলিস্তিনকে কর দিতে হবে ইস্রায়েলকে,পরিবর্তে তাদের শিক্ষার দায়ীত্ব ইস্রায়েল নেবে। জেরুজালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৪ লাখ ৩৫ হাজারের মত,এদের ইস্রায়েলের স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদ রয়েছে কিন্তু যদি শহরে বাহিরে নিদ্দিষ্ট সময়ের বেশি অবস্হান করে তবে নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে।

এই নথিতে আরো বলা আছেগাজা উপত্যকার জন্য অতিরিক্ত ভূখণ্ড দেবে মিশর। সেখানে বিমানবন্দর, কারখানা, বাণিজ্যিক ও কৃষি কেন্দ্র থাকবে। কিন্তু সেখানে ফিলিস্তিনিরা বসবাস করতে পারবেন না। এ বিষয়ে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বর্তমানে একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন গাজা ও পশ্চিম তীরের মধ্যে সংযোগের জন্য ইসরাইলের ভেতর দিয়ে মাটি থেকে ৩০ মিটার ওপরে সংযোগ সড়ক নির্মিত হবে। এই মহাসড়কের ৫০ শতাংশ ব্যয় বহন করবে চীন। দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা ও ইইউ ১০ শতাংশ করে ব্যয় করবে।

ফাঁস হওয়া এই নথিতে ইঙ্গিত মিলছে যে, চুক্তিতে অর্থায়ন করবে আমেরিকা, ইইউ এবং  অজ্ঞাত কিছু উপসাগরীয় দেশ। নয়া ফিলিস্তিনে বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের জন্য ৫ বছরে তিন হাজার কোটি ডলার দেওয়া হবে। এই অর্থের মধ্যে আমেরিকা ২০ শতাংশ, ইইউ ১০ শতাংশ ও উপসাগরীয় দেশগুলো ৭০ শতাংশ বহন করবে।

আরো পড়ুন :   বিয়েবাড়িতে চেয়ারে বসে খাওয়ায় দলিত তরুণকে পিটিয়ে মারল উচ্চবর্ণের মানুষজন
আরো পড়ুন :   তেজ বাহাদুর ও তাঁর ছেলেকে খুনের হুমকি দিয়েছিলো বিজেপি, প্রকাশ্যে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

 

নয়া ফিলিস্তিনের কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না। শুধু পুলিশ বাহিনী থাকবে। নয়া ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি সুরক্ষা চুক্তি সই হবে। এই চুক্তি অনুযায়ী নয়া ফিলিস্তিনকে বৈদেশিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে ইসরাইল। বিনিময়ে ইসরাইলকে অর্থ পরিশোধ করবে ফিলিস্তিন। প্রয়োজনে আরব দেশগুলোও ইসরাইলকে অর্থ পরিশোধ করবে। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, চুক্তি সই হলে হামাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিজেদের সমস্ত অস্ত্র মিশরের কাছে জমা দেবে। বিনিময়ে হামাস নেতাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে ও মাসিক বেতন দেবে আরব রাষ্ট্রগুলো। ইসরাইলি টার্মিনাল ও ক্রসিংয়ের মাধ্যমে গাজার সীমান্ত বহিঃর্বিশ্বের জন্য খুলে দেয়া হবে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি সমুদ্র ও বিমানবন্দর নির্মিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি সমুদ্র ও বিমান বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়েছে, পিএলও এবং হামাস এই চুক্তি সই না করলে তাদেরকে শাস্তি পেতে হবে। সেক্ষেত্রে আমেরিকা এমন সব প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করবে এবং অন্যদেরকেও বন্ধ করতে বলবে যেখান থেকে ফিলিস্তিনিরা আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে। যদিও আমেরিকা এরইমধ্যে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা ও জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি হাসপাতালে অর্থায়ন বন্ধ করেছে। যদি পিএলও চুক্তি সই করে, কিন্তু হামাস ও ইসলামি জিহাদ ই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করবে ইসরাইল, যাতে পূর্ণ সমর্থন থাকবে আমেরিকার। অন্যদিকে, ইসরাইল এই চুক্তি সই না করলে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে দেয়া সকল আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেবে।

সুত্র- parstoday.com

 

On the fani of the rabbit rain, a versatile poem

Facebook Comments
(Visited 17 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *