চীন সরকার উইঘর মুসলীম শিশুদের পরিবার থেকে আলাদা করে দিচ্ছে, জানাচ্ছে রিপোর্ট

টাইমস বাংলা নিউজডেস্ক : উইঘরদের উপর চিন সরকারের নানা অত্যাচারের স্বীকার এবার উইঘর মুসলিম পরিবারের শিশুরা। জিনজিয়াংয়ে আদিবাসী মুসলমান শিশুদের তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি রিপোর্টে। জানা গিয়েছে, শুধু একটি শহরেই ৪০০-র বেশি শিশুর পিতা-মাতা উভয়কেই হয় বন্দিশিবিরে বা কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।গবেষকরা জানাচ্ছেন যে, যেসব প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তা শিশুদের পর্যায়ক্রমে তাদের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে প্রচারণা চালানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আলাদা আলাদা ভাবে ৬০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গবেষকরা। যারা জিনজিয়াংয়ে শতাধিক শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য দিয়েছেন। নিখোঁজ শিশুগুলো তাদের সন্তান বা খুব কাছের আত্মীয়। শিশুরা সবাই চিনের উইঘুর মুসলমান সম্প্রদায়ের। চিনা কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে‘ ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জন্য উইঘুর মুসলমানদের নানা শিক্ষা দেওয়া হয়।

জিনজিয়াংয়ের বৃহৎ আদিবাসী মুসলমান সম্প্রদায় উইঘুরদের সঙ্গে তুরস্কের ভাষা ও বিশ্বাসের মেলবন্ধন দীর্ঘদিনের।চিনের উইঘুর সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ লেখাপড়া, ব্যবসা, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বা চিনের কঠোর এক সন্তান নীতি এবং ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে তুরস্কে যাতায়াত করতো। শেষ তিন বছর আগে চিন সরকার সন্ত্রাস দমনের নামে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে ধরে ধরে বন্দিশিবিরগুলোতে নিয়ে যাওয়া শুরু করে।তাই তারা এই তিন বছর সেখানেই আটকে পড়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি এবং জিনজিয়াংয়ের উপর এখন চিন সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ওই অঞ্চলটি। তাই ওখান থেকে এ বিষয়ে কোনও তথ্য বের করা সম্ভব না বলে জানান গবেষকরা। সেখানে বিদেশি সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখা হয়। তবে তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া উইঘুর মুলসমানদের কাছ থেকে কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করা গিয়েছে। নানা প্রমাণ বলছে, সেখানে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস বা ধর্ম পালন এবং মুখঢাকা হিজাব পরার কারণে অনেককে ধরে আনা হয়েছে। কাউকে কাউকে তুরস্কে বা অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণেও।

Facebook Comments

Simple Text

Facebook Comments
(Visited 22 times, 1 visits today)
(Visited 22 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *