পাটের নায্য মূল্য না মেলাই বিপাকে চাষীরা, বাড়ছে ক্ষোভ

কিবরিয়া আনসারী,টাইমস্ বাংলা, ডোমকল: ব্যাঙ্ক থেকে ঋিন নিয়ে, গ্রামের মোড়লের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে গত বছর পাট চাষ করেছে একাধিক পাট চাষী। পাটের নায্য মূল্য পেলে তবেই বিক্রয় করবে সেই পাট। তাই ভেবেই ঘরে মজুত করে রেখেছে কুইন্টাল কুইন্টাল পাট।

‘জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’ পাটের নায্য মূল্য দেওয়ার আশ্বাস দিলেও মিলছে না নায্য মূল্য।নায্য মূল্য না মেলায় বিপাকে পাট চাষীরা। পাটের নায্য মূল্যের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখালো চাষীরা। বৃহস্পতিবার ৩ টে নাগাদ জলঙ্গী থানার কালিগজ্ঞে ‘জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’ পাট গ্রহন কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ দাখায় চাষীরা।

 

চাষীদের অভিযোগ, অনেক টাকা ঋিন নিয়ে, টাকা ধার করে পাট চাষ করেছি। আর সেই পাট যদি না বিক্রি হয় তাহলে আমাদের সঙ্কটে পড়তে হবে। আবার সপ্তাহে ১৮ কুইন্টাল করে পাট নিচ্ছে জে সি আই। ফলে আরও বিপদে পড়তে হচ্ছে।

পাট চাষী আব্দুল জাব্বার সেখ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, অনেক কষ্টে পাট চাষ করেছি। আর এই পাট আমরা বিক্রি করার কোনো জায়গা পাচ্ছি না। সরকার জে সি আই খুলেছে চাষীদের পাট নেওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে আমাদের পাট নেওয়া হচ্ছে না। নায্য মূল্য দেওয়া হচ্ছে না। পাট বিক্রি না করতে পারলে বড়ো বিপদের মুখে পড়ে যাবো। ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা করাতে পারছি না। চতুর্থদিকে টাকার বোঝা চেপেছে। পাট না নিলে কীভাবে তা শোধ করব। আজ আমাদের এই পাট নায্য মূল্য দিয়ে যদি না নেয় তাহলে আমাদের আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

 

‘জে সি আই ‘ এর সরকারি আধিকারীক বিমান কুমার সরকার বলেন, পাট দেখে চাষীদের দাম দেওয়া হচ্ছে। কোলকাতা হেড অফিস থেকে অনলাইনে চাষীদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। আমাকে সপ্তাহে ১৮ কুইন্টাল পাট নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তার বেশি আমি কি করে নেব। যে পরিমান পাট এখানে পড়ে আছে তা নেওয়া আমরা পক্ষে অসম্ভব।

ডোমকল মহকুমা শাসক তাহেরুজ্জামান বলেন, ‘জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’ এটা ভারত সরকারের দেখভালের দায়িত্ব। তবে চাষীরা যে সমস্যায় পড়েছে তা অতি দুঃখজনক। চাষীরা আমাকে লিখিত ভাবে তাদের অভিযোগ জানালে আমি সরাসরি উদ্ধর্তন কতৃপক্ষ কে জানাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *