সামাজিক ও গণমাধ্যমের চাপে মুসাকে দেশে ফেরানোর তোড়জোড় প্রশাসনের? এয়ারপোর্ট থানা থেকে মিলল ক্লিয়ারেন্স

নিজস্ব প্রতিনিধি, টাইমস্ বাংলা, কলকাতা : নাইজেরিয়া থেকে এদেশে এসেছিলেন চোখের চিকিৎসা করাতে। কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারনে দীর্ঘ দু বছর চার মাস জেলের ঘানী  টানতে হল পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মুসা আলিকে।

 

উল্লেখ্য বছর তিনেক আগে নাইজেরিয়া থেকে এদেশে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন মুসা আলি আলেও । এখানে থাকাকালীন তার ভিসার মেয়াদকাল ফুরিয়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালের ৩০শে জুলাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং শুধুমাত্র এই ভুলের কারণে ব্যারাকপুর আদালত তার জন্যে এক বছর দশ মাসের জেল হেফাজত এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বরাদ্দ করে। গত ৩০শে মে,২০১৭ তার সাজার মেয়াদকাল সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু আদালতের সাজা শেষ হলেও মুসার জন্য অপেক্ষা করছিল এদেশের দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের চরম অবহেলা আর খেয়ালীপনা। আর যে কারনে মুসাকে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের বদ্ধ কুঠুরিতে আরো ছমাস কাটাতে হল। 

times Bangla

গ্রেপ্তার হবার সময় ৩লক্ষ ৭৫হাজার টাকা, ১০০ ডলার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস তার সঙ্গে ছিল, যেগুলি পুলিশ সেই সময় আটক করে। সাজা ঘোষনার সময় কোর্ট এটাও বলেছিল, তাঁর সাজা পূরণ হবার সাথে সাথে সমস্ত সম্পত্তি যেন তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং যথাযথ ভাবে সব কিছু ফেরত পেলেই তিনি মুক্তি পাবেন। দুর্ভাগ্যের বিষয়,ছ’মাস পরেও পুলিশ তাঁকে তাঁর জিনিসপত্র ফিরিয়ে দেয়নি, আর সেজন্য মুসা আলি মুক্তিও পাননি।

বহুদিন ধরে সবরকম চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শেষমেষ গত ৬ই নভেম্বর থেকে তিনি জেলের ভিতর আমরণ অনশন শুরু করেন। টাইমস্ বাংলাতে এ খবর প্রকাশ হতেই দেশ কাল সীমানার ব্যবধান ভুলে পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন সংগঠন ও  গণমাধ্যমগুলি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় মুসার দিকে।গত ২০ নভেম্বর জেল চত্বরেই প্রতিবাদ কর্মসুচী গ্রহণ করে রেডিকেল, আল ফালাহ্ ট্রাস্ট সহ এপিডিআর এর মতো একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। জেল সুপার ভিনদেশী ওই যুবককে নিয়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য নয় বলে জানিয়ে দিলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। 

অবশেষে জেল সুপারের লিখিত বক্তব্য সহ পাঁচ জনকে মুসা আলি আলেও এর সাথে দেখা করার সুযোগ করে দিতে বাধ্য হয় কারা কতৃপক্ষ।

 

তবে পরিস্থিতি নিমন্ত্রণে আগে থেকেই তৈরী রাখা হয়েছিল কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দলকে। কড়া ঘেরা টোপের মধ্যেই জেল সুপারের সাথে দেখা করতে পুলিশের সাথে দফায় দফায় আলোচনা শুরু হয় নেতৃত্ব স্থানীয়দের। 

জেল সুপারের দেওয়া লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী -“আগামী পাঁচ দিনের মধ্যেই মুসা আলির ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার মধ্য ১ লক্ষ ৭৫ টাকা দিয়ে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করবো আমরা। ” দুলক্ষ টাকার হিসাব দিতে গিয়ে তার দেশে ফেরার বিমান ভাড়া উকিলের টাকা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় খরচের কথা তুলে ধরা হয় যদিও জেল সুপারের এই লিখিত বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের একাধিক আইনজীবী।

অন্যদিকে জেল সুপারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে এর প্রতিবাদে এবার আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের সামনে কয়েক হাজার মানুষের জমায়েত করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন আল ফালাহ্ ট্রাস্টের কর্ণধার ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা। তাঁর বক্তব্য -“আমরা চাই মায়ের সন্তান সসম্মানে মায়ের কোলে ফিরে যাক, তবে প্রশাসন যদি সহযোগিতা না করে তার পরিনতি হবে ভয়ানোক।”

এর পরেই নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। আজ সকালেই মুসাকে জেল থেকে দমদম থানায় নিয়ে আসা হয়। একই সাথে বাজেয়াপ্ত হওয়া ৩লক্ষ ৭৫ টাকা মুসার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। বেলা দুটো নাগাত মুসাকে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে। আগামী সোমবারের মধ্যেই মুসা মায়ের কোলে ফিরতে পারবে বলে জানা গেছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *