দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও গর্জে উঠল প্রতিবাদ, ‘নট ইন মাই নেম’

বিশেষ প্রতিবেদন, টাইমস বাংলা, কলকাতাঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি ঘিরেই আন্দোলনের সূত্রপাত। ছবিতে দেখেছি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জড়িয়ে ধরে নরেন্দ্র দামোদর মোদী। সামাজিক মাধ্যম গুলিতে ভাইরাল হওয়া ছবির নীচে লেখা— ‘গোমাংস খাওয়া একটি লোককে যদি মোদী জড়িয়ে ধরতে পারেন, আপনি কেন নয়?’ হ্যাঁ রবিবার দিনভর এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল। শুধু তাই নয়  দিল্লি থেকে তিরুবনন্তপুরম, কলকাতা থেকে মুম্বাই , এমনকী দেশের বাইরে লন্ডন, কেমব্রিজ হয়ে আমেরিকার বস্টন পর্যন্ত আমজনতা রাস্তায় নেমে কোথাও স্লোগান তুলেছেন, কোথাও প্ল্যাকার্ড হাতে ধরে নীরবে একটি কথাই বলল— ‘ভাই, আমি তোমার দলে নেই।’ 

 

দেশের অভ্যন্তরে যেভাবে একের পর এক নিরীহ মানুষের উপর আক্রমনের খাঁড়া নেমে আসছে তাতে প্রতিবাদ ছাড়া উপায় কী? গো রক্ষার নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দেশের অধিকাংশ মানুষের বিবেক কে নাড়িয়ে দিয়েছে। তারই বহিঃপ্রকাশ ‘নট ইন মাই নেম ” ট্রেনের কামরায় ১৬ বছরের কিশোরকেও যারা পিটিয়ে-কুপিয়ে মারছে, তারা আমার দলে নেই। আর আমিও তাদের দলে নেই। সংখ্যাগুরুর দলে টেনে এই অন্যায়ে আমাকে জড়িও না— ‘নট ইন মাই নেম!’ প্লাকার্ড হাতে নাগরিক সমাজ। 

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মোদী ক্ষমতায় আসার পরেই দেশে অসহিষ্ণুতা আর হিন্দুত্ববাদীদের দাপট কী ভাবে বেড়েছে তা সহজেই অনুমেয়, দাদরির মহম্মদ আখলাখ থেকে আলওয়ারের পেহলু খানের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে তা দেখিয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের নির্লজ্জ চরিত্রের পরিস্ফুটন আমরা দেখেছি। ঈদের আগে ট্রেনে হরিয়ানার বল্লভগড়ের কিশোর জুনেইদের মৃত্যু সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে উস্কে দিয়েছিল স্লোগানটা— ‘নট ইন মাই নেম’। তথ্যচিত্র পরিচালক সাবা দেওয়ান তাঁর ফেসবুক ওয়ালেই প্রথম ডাকটা দিয়েছিলেন। দিল্লির যন্তর-মন্তরে জমায়েত হয়ে নীরব প্রতিবাদে সামিল হতে বলেছিলেন বন্ধুদের। সেই প্রতিবাদই ছড়িয়ে গিয়েছে দেশ জুড়ে। শুধু দেশ কেন দেশের বাইরেও। কলকাতা, ইলাহাবাদ, বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড়, জয়পুর, হায়দরাবাদ, কোচি, লখনউ, পটনা, পুণে, চেন্নাই— নির্ভয়ার মৃত্যুর পরে দেশ জুড়ে সাধারণ নাগরিকের এমন অরাজনৈতিক প্রতিবাদ হয়। তার পরে সম্ভবত এই প্রথম। সংখ্যালঘু ও দলিত শ্রেনীর মানুষকে বাঁচার আশা দেখিয়েছে নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মিছিল। 

বৃষ্টির ঘনঘটা উপেক্ষা করে কলকাতায় মধুসূদন মঞ্চ-দক্ষিণাপণ চত্বরে অজস্র সাধারণ মানুষের ভিড়ে প্রতিবাদের সুর তুললেন অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, অনীক দত্তের মতো শিল্পী, বুদ্ধিজীবীদের বিরাট একটা অংশ । দিল্লির যন্তর-মন্তরেও বৃষ্টিভেজা জমায়েতে গিটার হাতে গান গাইলেন রাব্বি শেরগিল। মুম্বইয়ের বান্দ্রা কার্টার রোডে হাজির শাবানা আজমি, গিরিশ কারনাড, কঙ্কনা সেনশর্মা, কল্কি কেঁকলা, তিস্তা শেতলবাদেরা। বেঙ্গালুরুতে দেখা গেল ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহকে।

অনেকে বলছিলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ব্যস্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আর জিএসটি নিয়ে। জনতা দেখিয়ে দিল, আমরা তো আছি! মানুষ কে মানুষের মত ভালোবাসা দিতে চেষ্টা করি । বাঁচি এবং বাঁচানোর প্রতিজ্ঞা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *