মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন গভীর কোমায় আচ্ছন্ন:ঈশ্বর,আল্লাহ,ভগবানের কাছে প্রার্থনা করুন

পাঠ‌কের কল‌মে,টাইমস্ বাংলা,১৯মে: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি অনুমোদন ও অনুদান প্রাপ্ত মাদ্রাসা গুলিতে ২০০৮ সাল থেকে শিক্ষক নিয়োগ হত মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে।কমিশন 6th SLST নিয়েছিল ২০১৪ সালের ৮ই জুন(টেট)এবং ২৪শে আগষ্ট বিষয়।সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় দুই বছর পর ৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৬ তে।তারপর কমিশন গভীর কোমায় আচ্ছন্ন এখন পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি।যদিও সুপ্রিম কোর্ট ২৪শে এপ্রিল২০১৭,’লিভ গ্রান্ট’ করে মাদ্রাসা কমিটির নিয়োগ ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে এবং কমিশন কে তার স্বাভাবিক কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।সম্প্রতি দৈনিক কলম পত্রিকায় বিশিষ্ট আইনজীবি একরামুলবারি মহাশয় সুপ্রিম কোর্টের লিভ গ্রান্টের’ ব্যাখ্যা দিয়ে স্পষ্ট বলেছেন মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ করতে কোন আইনি বাধা নেই।কিন্তু তারপরেও রাজ্য সরকার কমিশন কে কোমা থেকে বার করে স্বাভাবিক কাজ করতে নির্দেশ দিচ্ছে না।কিন্তু কেন?? এই প্রশ্নের উত্তর বাংলার শিক্ষিত যুব সমাজ জানতে আগ্রহী,উৎসুক।দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মাদ্রাসা গুলি শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে,চাকুরি প্রার্থীগণ চাকুরির জন্য প্রহর গুনছেন।তবে কি কিছু দুর্নীতিগ্রস্থ মানুষকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই গড়িমসি?এই জটিলতা কাটানোর কোন বিকল্প রাস্তা কি সরকারের কাছে নেই?কি অপরাধ কমিশনের লিখিত পরীক্ষায় সফল প্রার্থীদের।তারা নিয়ম মেনে ফর্ম ভরেছে, পরীক্ষা দিয়েছে এবং সফল হয়েছে।কিন্তু তারপরেও চাকরি পাচ্ছে না।আজ এই সফল চাকুরি প্রার্থীগণ অবসাদ গ্রস্থের মত বেঁচে আছেন।এই সফল মেধাবী প্রার্থী দের ঝুলিয়ে রেখে কেন মাদ্রাসা কমিটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ করছে।এদের দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত করুক সরকার।এই মাত্রাহীন দুর্নীতি চলতে পারে না।কিন্তু এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলার লাল,নীল, সবুজ, হলুদ,গেরুয়া সব শ্রেণির মানুষ নীরব।এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দায় কি শুধুমাত্র বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরামের? ২০০৮ সাল থেকে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৩৩০টাকার ফর্মে যে সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকা চাকরি পেয়েছেন তাদেরও কি কোন নৈতিক দায়বদ্ধতা নেই।খুব অবাক লাগে 5th SLST তে মাদ্রাসায় চাকুরি পাওয়া শিক্ষক যখন রকে বসে বলেন 6th SLST ফল প্রকাশ অবৈধ।মানুষের নীতি আদর্শ,বিবেক বোধ বলে কোন জিনিস নেই।আজ কেন 6th SLST সফল প্রার্থীগণ কে ইন্টারভিউ এর জন্য কলকাতার রাজপথে মিছিলে হাঁটতে হবে?ভারতবর্ষের ইতিহাসে এমন নজির বিহীন ঘটনা পূর্বে ঘটেছে?সংখ্যালঘু নেতারা মুখে কুলুপ দিয়ে আছেন কেন?এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখন প্রতিবাদ করবেন।সংখ্যালঘু উন্নয়নের বিজ্ঞাপনে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ ঢাকা পড়ে গেল।বিজন ভট্রাচার্য এর ‘নবান্ন’ নাটকের অন্যতম চরিত্র প্রধান সমাদ্দার এর সুরে সুর মিলিয়ে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সফল প্রার্থীগণ যেন বলছে-
‘তোমরা কি সব বধির হয়ে গেছ বাবুরা —কিছু কানে শোন না ….তোমাদের কি প্রাণ নেই বাবু!’

এইচ ইউ ফারুক,মালদা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *