পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ে ‘মা-মাটি-মানুষ’কে ধন্যবাদ দিলেন মমতা

নিজস্ব প্র‌তি‌নি‌ধি, টাইমস্ বাংলা: সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় ৭ পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিরাট জয়ের জন্য ‘মা-মাটি-মানুষ’কে ধন্যবাদ জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মোট ৭ টি পৌরসভার মধ্যে ৪ টিতেই জিতেছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। রায়গঞ্জ, মিরিক, ডোমকল এবং পূজালি পৌরসভায় দলটি জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, দার্জিলিং কার্শিয়াং এবং কালিম্পংয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা জয়ী হয়েছে। লক্ষনীয়ভাবে যাবতীয় প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রাজ্যের বিরোধী কংগ্রেস, সিপিএম ও বিজেপি একটি পৌরসভাও দখল করতে পারেনি। 

রায়গঞ্জ পুরসভা আগে কংগ্রেসের দখলে থাকলেও এবার এখানে তৃণমূল জয়ী হওয়ায় ওই পৌরসভা কংগ্রেসের হাতছাড়া হল। পৌরসভাটিতে ২৭ টির মধ্যে ২২ টি আসন পেয়ে জয়ী হয়েছে তৃণমূল৷

ডোমকল ও পূজালি পৌরসভাও নিজেদের দখলে রাখতে সমর্থ হয়েছে তৃণমূল৷

আজ (বুধবার) মমতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় বলেন, ‘আমাদের উপর বিশ্বাস অটুট রাখার জন্য ‘মা-মাটি-মানুষ’কে ধন্যবাদ। আমরা সম্মানিত। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং ও মিরিকের ভাই ও বোনেদের অভিনন্দন।’

২০০৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ভাবিত ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান এক সময় খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরে মমতা সেই পুরোনো স্লোগানকে টেনেই জনগণকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।
 
মমতা এদিন মিরিকবাসীদের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। এখানে তৃণমূল কংগ্রেস এবার ক্ষমতায় এসেছে। মিরিক পৌরসভায় ৯ টি আসনের মধ্যে ৬ টিতেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল৷ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা পেয়েছে মাত্র ৩ টি আসন৷ প্রায় তিন দশক পর পাহাড়ে সমতলের কোনো রাজনৈতিক দল জয় পেল, যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।   

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ এক বার্তায় বলেন,‘আমাদের উপর ভরসা করায় মিরিকের মানুষদের বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। আমরা আপনাদের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করব। বেশ কিছু দশক পর আমরা পাহাড়ে নতুন যুগের শুরু করলাম। পাহাড় সত্যিই হাসছে।’

অন্যদিকে, ‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’ প্রধান বিমল গুরুং মিরিক পুরসভায় তৃণমূলের জয়কে মেনে নিতে পারেননি। তার অভিযোগ, ‘পাহাড়বাসীর রায়ে নয়, বরং গণনার কারচুপিতেই তৃণমূল জয়ী হয়েছে। আজ পৌরসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে দার্জিলিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন। মিরিকে পুনরায় ভোট গণনা করারও দাবি করেছেন তিনি।

মিরিক পুরসভা মোর্চার থেকে ছিনিয়ে নেয়া ছাড়াও দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াংয়ে মোর্চার ভোট ব্যাংকে ভাঙন ধরিয়ে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে তৃণমূল। এরফলে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা বড় ধাক্কা খেয়েছে।

অন্যদিকে, ডোমকল, রায়গঞ্জ ও পূজালি পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম এবং কারচুপির অভিযোগে ফল প্রকাশের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন জানিয়ে কোলকাতা হাইকোর্টে যে আবেদন করা হয়েছিল আজ তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছে।

রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সাফাই শুনে বিচারপতি দেবাংশু বসাক প্রশ্ন করেন, ‘এই মামলার যুক্তি কী?’ কোনো নির্দেশ ছাড়াই এদিন ওই মামলার নিষ্পত্তি হয়ে যায়৷ কিন্তু আদালত কংগ্রেসকে নিয়ম মেনে আবেদনের পরামর্শ দিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে ফলপ্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা জজের বেঞ্চে কংগ্রেস আবেদন করতে পারে বলে হাইকোর্ট জানিয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *