জম্মু-কা‌শ্মি‌রে পাক বা‌হিনীর গু‌লি‌তে গ্রাম‌ ছে‌ড়ে অন্যত্র পালা‌চ্ছে বা‌সিন্দারা

টাইমস্ বাংলা ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মিরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ১ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পাক বাহিনীর হামলায় নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বাড়িঘর আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও মানুষজন হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে .
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ২৬ টি গ্রামকে টার্গেট করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। এসব এলাকা থেকে বাসিন্দাদের বের করে এনে নিরাপদ স্থানে পাঠানো হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে পাক বাহিনীর গুলি ও মর্টার হামলায় এ পর্যন্ত ৩ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং ৪ জওয়ানসহ ৭ বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ভারতের পক্ষ থেকে প্রত্যেকবারই পাল্টা গুলি চালিয়ে জবাব দেয়া হলেও পাকিস্তান তাদের তৎপরতা থামাচ্ছে না। পাকিস্তানের গুলির কারণে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ১৯৩ টি পরিবারের ৭৪৩ জনকে উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে পাঠানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ শিবিরে থাকা লোকেদের জন্য খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলি চলার মধ্যে নৌসেরা সেক্টরে ৫১ এবং মাঞ্জাকোট ও ডোঙ্গি সেক্টরে ৩৬ স্কুলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে গুলি চালানোর ঘটনায় স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। নৌসেরা সেক্টরের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা কোথাও যেতে চাই না। আমরা আমাদের বাসায়ও ফিরে যেতে চাই না। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন আমাদের গুলি করে দিন।  রাজৌরির ডেপুটি কমিশনার শাহীদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কাছে ৩০ টি ত্রাণ শিবির আছে। এসব জায়গায় থাকা লোকেদের আমরা সমস্ত সুবিধা দিচ্ছি এবং কমপক্ষে ১০০ কর্মকর্তাকে কাজে লাগানো হয়েছে।’  

শাহীদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘কমপক্ষে ২০/২৫ তি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহত লোকেদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। পরে নিয়ম অনুসারে বাকি অর্থ দেয়া হবে।’  তিনি বলেন, প্রবল গুলিবর্ষণের কারণে লোকজনদের বের করে আনতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসন সন্ধ্যার মধ্যে ওই এলাকা থেকে সমস্ত লোকেদের নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করবে বলেও শাহীদ ইকবাল চৌধুরী বলেন ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *